Hot News
- Advertisement -
Ad imageAd image

ভাঙ্গড়ে প্রকাশ্য দিবালোকে রণক্ষেত্র: রাজ্জাক খান খুনে অভিযুক্তকে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা, এলাকায় তীব্র উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিনিধি, ভাঙ্গড়: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙ্গড় ২ নম্বর ব্লক অফিসের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আক্রান্ত যুবকের নাম সাগর ঢালি। তিনি ভাঙ্গড় ২ নম্বর ব্লকের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি রাজ্জাক খান হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি কলকাতার একটি হাসপাতালে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
ঘটনার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে সাগর ঢালি যখন তাঁর মোটরবাইক নিয়ে ভাঙ্গড় ২ নম্বর ব্লক অফিসের সামনের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন, সেই সময় একটি চারচাকা গাড়ি আচমকা তাঁর পথ আটকায়। গাড়ি থেকে ৪-৫ জন দুষ্কৃতী নেমে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে সাগরকে থামতে বাধ্য করে। এরপরই কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে দুষ্কৃতীরা। শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাথাড়ি কোপানো হয় তাকে। জনবহুল এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী হামলা দেখে পথচারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সাগর রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দুষ্কৃতীরা দ্রুত গাড়ি নিয়ে চম্পট দেয়।
উদ্ধার ও চিকিৎসা
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জিরানগাছা ব্লক গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করলে চিকিৎসকরা তাঁকে কলকাতার চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। বর্তমানে ট্রমা কেয়ার সেন্টারে তাঁর জীবন-মৃত্যুর লড়াই চলছে।
তদন্তে পুলিশ
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কাশীপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় পুলিশ ও র‍্যাফ (RAF) মোতায়েন করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এটি একটি সুপরিকল্পিত হামলা। রাজ্জাক খান খুনের বদলা নিতেই কি এই আক্রমণ, নাকি এর পিছনে পুরনো কোনো গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ব্লক অফিসের আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের গাড়িটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভাঙ্গড়ের রাজনীতি। বিরোধীদের দাবি, প্রকাশ্য দিবালোকে সরকারি দপ্তরের সামনে এই ধরনের হামলা প্রমাণ করে যে এলাকায় আইনশৃঙ্খলার কোনো অস্তিত্ব নেই। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে একে ব্যক্তিগত শত্রুতার জের বলে দাবি করা হলেও, ঘটনার ভয়াবহতায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আমাদের নিউজলেটার জন্য সাইন আপ করুন