কাঠমান্ডু: ভয়াবহ হড়পা বানের ক্ষত এখনও শুকোয়নি। এরই মধ্যে নেপালের পাহাড়ি এলাকায় ফের আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কয়েক দিন আগে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ও পাথরের ধসের জেরে নদীর গতিপথে ধ্বংসাবশেষ জমে অস্থায়ী জলাধার তৈরি হয়েছিল। সেই জলাধার ভেঙে পড়লে ফের বিপুল জলরাশি নেমে আসার আশঙ্কায় নেপাল ও চিনের তরফে সতর্কতা জারি করা হয়।
গত ২৬ আগস্ট ভয়াবহ হড়পা বানে নেপালের একাধিক এলাকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। পাহাড় থেকে নেমে আসা জল, কাদা ও পাথরের স্রোতে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হওয়ার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা ও একাধিক পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তী সময়ে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে জল জমে অস্থায়ী প্রাকৃতিক জলাধার তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।
২৭ আগস্ট নেপাল ও চিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই জলাধারে বিপুল পরিমাণ জল জমছে। প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে নিচের দিকে থাকা জনবসতিগুলিতে আচমকা জলস্রোত আছড়ে পড়তে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয় এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে পরবর্তী স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণে কিছুটা স্বস্তির খবর মেলে। জলাধারের জলস্তর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করায় বড় ধরনের বাঁধভাঙা বন্যার আশঙ্কাও অনেকটাই কমেছে। ফলে ভাইরাল হওয়া পুরনো সতর্কবার্তাকে বর্তমান পরিস্থিতি হিসেবে সরাসরি প্রচার না করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। হিমালয় অঞ্চলে অস্থিতিশীল ভূপ্রকৃতি, হিমবাহ ধস এবং পাহাড়ি নদীতে হঠাৎ জলপ্রবাহ বৃদ্ধির কারণে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় এখনও আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছে প্রশাসন।

