গত দুই দিনের ঝটিকা সফরে উত্তর-পূর্ব ভারতের চা বলয়ে গিয়ে এক অনন্য মেজাজে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ডিব্রুগড় ও সংলগ্ন এলাকার চা বাগানগুলোতে সরাসরি শ্রমিকদের মাঝে পৌঁছে যান তিনি। সেখানে নারী শ্রমিকদের সঙ্গে কাঁধে ঝুড়ি বেঁধে চা পাতা তুলতে দেখা যায় তাঁকে। এই সফরের মূল আকর্ষণ ছিল শ্রমিকদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কথোপকথন, যেখানে তিনি নিজের শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করে এক গভীর আবেগের যোগসূত্র তৈরি করার চেষ্টা করেন।
শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন রেলওয়ে স্টেশনে চা বিক্রি করতাম। আপনারা চা উৎপাদন করেন, আর আমি সেই চা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতাম। তাই চায়ের গন্ধ আর আপনাদের পরিশ্রমের ঘাম—দুটোই আমার খুব চেনা। আপনাদের কষ্ট অন্য কেউ বুঝুক বা না বুঝুক, এই প্রধান সেবক ঠিকই বোঝে।” মোদীর এই মন্তব্যটি মূলত চা বলয়ের সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সংযোগ স্থাপনের একটি বিশেষ কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সফরের সময় মোদী কেবল নিজের কথাই বলেননি, শ্রমিকদের অভাব-অভিযোগও শোনেন। বিশেষ করে চা বাগানের আবাসন সমস্যা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং মজুরি নিয়ে যে দীর্ঘদিনের দাবি রয়েছে, সে বিষয়ে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ পদক্ষেপের আশ্বাস দেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের চা বলয়ে বড় ভোটব্যাঙ্ক কবজা করতেই মোদী নিজের পুরনো ‘চা-ওয়ালা’ পরিচয়কে নতুন করে সামনে নিয়ে আসছেন। বিরোধীরা একে নির্বাচনী নাটক বলে কটাক্ষ করলেও, সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গে তাঁর এই নিবিড়ভাবে মিশে যাওয়া এবং সেলফি তোলার দৃশ্যগুলো বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই আবেগের জোয়ার ভোটের বাক্সে কতটা প্রতিফলন ঘটাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

