Hot News
- Advertisement -
Ad imageAd image

যারা ব্যাট ধরতেও জানে না, তারা কেন নেতৃত্বে?” ক্রিকেট প্রশাসনে ‘অবিশেষজ্ঞদের’ দাপটে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট

দেশের ক্রিকেট সংস্থাগুলোর বর্তমান পরিচালনা পদ্ধতি এবং নেতৃত্বের যোগ্যতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার, ৩রা ফেব্রুয়ারি মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (MCA) সদস্যপদ এবং নির্বাচন সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছে, ক্রিকেট সংস্থাগুলোর নেতৃত্বে এমন অবিশেষজ্ঞদের থাকা উচিত নয় যাদের মাঠের লড়াই বা খেলা সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা নেই।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ (সহযোগী বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলি) শুনানি চলাকালীন বলেন, “ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনগুলোতে আপনারা কাদের সদস্য হিসেবে আনছেন? এমন লোকজনকে আনা হচ্ছে যারা ঠিকমতো ব্যাট ধরতেও জানে না (Do not even know how to handle a bat)।” আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, খেলাটির উন্নতি এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসনিক পদে প্রাক্তন ক্রিকেটারদের অগ্রাধিকার দেওয়া একান্ত প্রয়োজন। প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ক্রিকেট টিকে আছে ক্রিকেটারদের জন্য, গুটিকয়েক প্রশাসকের ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য নয়।
‘বাম্পার ড্র’ কটাক্ষ
মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সংখ্যা হঠাৎ করে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টিকে আদালত “বাম্পার ড্র” বলে কটাক্ষ করে। তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত যেখানে সংস্থাটির সদস্য সংখ্যা ছিল ১৬৪, সেখানে হঠাৎ করে ৪০০-র বেশি সদস্য করার প্রক্রিয়াকে সন্দেহের চোখে দেখছে আদালত। বিচারপতিরা মন্তব্য করেন, এটি একটি সুপরিকল্পিত অনিয়ম হতে পারে।
বম্বে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ বহাল
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বম্বে হাইকোর্ট আগেই এমসিএ-র (MCA) নির্বাচনে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট সেই স্থগিতাদেশ তুলে নিতে অস্বীকার করে এবং হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকেই সমর্থন জানায়। আদালত জানায়, হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়ে আসলে বড় কোনো জালিয়াতি হওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছে।
আগামীর বার্তা
শীর্ষ আদালতের এই কঠোর অবস্থান ভারতের অন্যান্য ক্রিকেট সংস্থাগুলোর ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। বিশেষ করে লোঢা কমিটির সুপারিশ কার্যকর করা এবং প্রশাসনে ক্রিকেটারদের অংশীদারিত্ব বাড়ানোর যে লড়াই দীর্ঘকাল ধরে চলছে, সুপ্রিম কোর্টের এই মন্তব্য তাতে নতুন মাত্রা যোগ করল।

আমাদের নিউজলেটার জন্য সাইন আপ করুন