কৃষ্ণনগর শহর পার করে গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ঢুকতেই ভীমপুর বাজারের ব্যস্ততা চোখে পড়ে। সকালের ভিড়ে ঠাসা এই বাজারে এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে রাজনৈতিক চর্চা। দীর্ঘ সময় ধরে এই এলাকা বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে জনমতের কিছুটা রদবদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাজারের সাধারণ ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কথায় উঠে আসছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছেন, ভোট দিলেও সারা বছর বিজেপিকে পাশে পাওয়া যায় না, আবার কেউ বলছেন, বিজেপিকে ভোট দিলেও রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো থেকে তাঁরা বঞ্চিত হননি।
আসন্ন নির্বাচনে এই কেন্দ্রে লড়াই মূলত বহুমুখী। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সোমনাথ দত্ত দীর্ঘ সময় সাংসদ মহুয়া মৈত্রের ছায়াসঙ্গী হিসেবে কাজ করায় গ্রাম ও শহর উভয় এলাকাতেই তাঁর ভালো পরিচিতি রয়েছে। তিনি উন্নয়নের খতিয়ান এবং শহরকে ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। বিশেষ করে যানজট সমস্যা সমাধান এবং কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পীদের জন্য কাজ করার আশ্বাস দিচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী তারক চট্টোপাধ্যায় তাঁর নির্বাচনী প্রচারে মেরুকরণের ইস্যুটিকে প্রাধান্য দিচ্ছেন এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও পুর-পরিষেবা প্রদানে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলছেন। দীর্ঘ বিরতির পর বামেরাও এই কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়ে তাদের হারানো জমি ফিরে পেতে মরিয়া।
রাজনৈতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিজেপি বড় ব্যবধানে লিড পেয়েছিল এবং শহরের ২৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৪টিতেই তৃণমূল পরাজিত হয়েছিল। এমনকি ২০২১ সালে বিজেপির টিকিটে জয়ী মুকুল রায় পরবর্তীতে তৃণমূলে যোগ দিলেও তাঁকে এলাকায় না দেখতে পাওয়ার একটা সুপ্ত ক্ষোভ মানুষের মধ্যে রয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনে একটি বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ভোটার তালিকা। এসআইআর-এর কারণে প্রায় ২৮ হাজার ভোটার কমে যাওয়া এবং বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়া রাজনৈতিক দলগুলোর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিশেষ করে ওপার বাংলা থেকে আসা মানুষের ভোট এখানে বড় ফ্যাক্টর হওয়ায়, এই সংখ্যাতত্ত্ব নির্বাচনের ফলাফলে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

