Hot News
- Advertisement -
Ad imageAd image

ধর্ম নয়, উন্নয়নই হোক ভোটের হাতিয়ার: হাঁসখালির জনসভা থেকে বার্তা দেবের

“ভোট কি ধর্মের ভিত্তিতে হয়, নাকি রুজি-রুটির প্রশ্নে?”—প্রখর গ্রীষ্মের দুপুরে হাঁসখালির জনসভা থেকে এই প্রশ্নই ছুড়ে দিলেন তৃণমূলের তারকা সাংসদ দেব। শুক্রবার নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সমীরকুমার পোদ্দারের সমর্থনে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে দেব বলেন, “আমাদের একটাই পরিচয়, আমরা ভারতবাসী। যারা ধর্ম দিয়ে বিভেদ তৈরি করে, তাঁদের প্রত্যাখ্যান করুন।”
বৈশাখের তপ্ত রোদ উপেক্ষা করেই এদিন হাঁসখালি হাইস্কুলের মাঠে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রিয় তারকাকে হাতের নাগালে পেয়ে জনতা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে। দেব মঞ্চে আসতেই শুরু হয় পুষ্পবৃষ্টি। অনুরাগীদের আবদারে সিনেমার সংলাপ না আউড়ে বরং দায়বদ্ধ রাজনীতিকের মতোই মানুষের পাশে থাকার বার্তা দেন তিনি। ভিড় সামলাতে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়।
বক্তব্যের শুরু থেকেই দেবের নিশানায় ছিল গেরুয়া শিবিরের ‘ধর্মীয় মেরুকরণ’। পালটা হিসেবে তিনি হাতিয়ার করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনমুখী প্রকল্পগুলোকে। তাঁর দাবি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, কন্যাশ্রী এবং আবাস যোজনার মতো প্রকল্পগুলি বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছে, যা অন্য কোনও রাজ্যে দেখা যায় না। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা কথা দেন, তা রাখেন। তাই ভোট দেওয়ার আগে ভাববেন কে আপনাদের সামাজিক সুরক্ষা দিচ্ছে।”
সাংসদ দেবের এই সফরের অন্যতম প্রাপ্তি হলো বিরোধী শিবিরে ভাঙন। সভা শেষে বিজেপির ঘর ভেঙে বেশ কিছু আদিবাসী পরিবার তৃণমূলে যোগদান করেন। তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, দেবের এই জনসংযোগ এবং ‘উন্নয়ন বনাম ধর্ম’ তাস কৃষ্ণগঞ্জ কেন্দ্রে জোড়াফুল শিবিরের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। সভার শেষে সাধারণ মানুষের মাঝে মেতে উঠে এবং তাঁদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েই মাঠ ছাড়েন পর্দার দীপক অধিকারী।

আমাদের নিউজলেটার জন্য সাইন আপ করুন