নিজস্ব প্রতিনিধি, নদীয়া: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ বাড়ার সাথে সাথেই নদীয়ার চাপড়া বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। নির্বাচনী জনসভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘মুসলিম বিরোধী’ উস্কানিমূলক প্রচারের অভিযোগ তুলল বিরোধী শিবির। একই সঙ্গে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে জেলা নির্বাচন কমিশনের ‘নীরবতা’ নিয়ে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
সূত্রের খবর, গত কয়েকদিনে চাপড়ার বিভিন্ন গ্রাম ও জনপদে বিজেপির প্রচার সভায় এমন কিছু বক্তব্য রাখা হয়েছে যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, উন্নয়নের চেয়ে বিশেষ একটি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ভারতের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো এবং নির্বাচন কমিশনের আদর্শ আচরণবিধির (Model Code of Conduct) পরিপন্থী।
কমিশনের ভূমিকা ও নিয়মাবলি
নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রচারের সময় কোনো ধর্ম বা জাতির ভাবাবেগে আঘাত করা যাবে না। কিন্তু চাপড়ার ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো বড় ধরনের পদক্ষেপ বা শো-কজ নোটিশ জারি না হওয়ায় বিরোধীরা সুর চড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, “প্রকাশ্যে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ হলেও কমিশন নির্বিকার।”
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
তৃণমূল ও অন্যান্য বিরোধী পক্ষ: তাদের দাবি, বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি করছে এবং প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে। এই বিষয়ে তারা ইতিমধ্যেই কমিশনের কাছে ভিডিও প্রমাণসহ অভিযোগ জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিজেপি নেতৃত্ব: গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, তারা শুধুমাত্র অনুপ্রবেশ এবং তোষণনীতির বিরুদ্ধে কথা বলছেন, কোনো বিশেষ ধর্মের বিরুদ্ধে নয়।
জনসাধারণের জন্য বার্তা
নির্বাচনী আবহে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা উসকানিতে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছে প্রশাসন। সাধারণ মানুষ যদি কোনো প্রার্থীর বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প লক্ষ্য করেন, তবে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের ‘cVigil’ অ্যাপের মাধ্যমে গোপনীয়তা বজায় রেখে অভিযোগ জানাতে পারেন।
চাপড়ার এই পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং নির্বাচন কমিশন শেষমেশ কোনো কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না, এখন সেটাই দেখার।

