Hot News
- Advertisement -
Ad imageAd image

রাজধানী এক্সপ্রেসে বিধ্বংসী আগুন, পুড়ে ছাই এসি কামরা; আগুন ছড়াল রেললাইনের গাছপালাতেও

চলন্ত রাজধানী এক্সপ্রেসে আচমকাই লেগে গেল বিধ্বংসী আগুন। ট্রেনের চাকা থেকে নির্গত আগুনের ফুলকি থেকে মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) কামরায়। ট্রেনের গতি এবং বাতাসের টানে আগুনের তীব্রতা এতটাই মারাত্মক রূপ নেয় যে, চোখের পলকে পুরো কামরাটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। একই সাথে চলন্ত ট্রেন থেকে ছিটকে আসা জ্বলন্ত অংশ ও স্ফুলিঙ্গে আগুন ধরে যায় রেললাইনের দু’পাশের শুকনো ঝোপঝাড় ও গাছপালাতেও। তীব্র দাবদাহের কারণে সেই আগুন চারদিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তবে চালক ও রেলকর্মীদের তৎপরতায় ট্রেনটি দ্রুত থামিয়ে দেওয়ায় অলৌকিকভাবে বড়সড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
রেল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কাল রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিট নাগাদ ডাউন রাজধানী এক্সপ্রেসটি যখন পূর্ণ গতিতে একটি ফাঁকা গ্রামীণ এলাকা অতিক্রম করছিল, ঠিক তখনই ট্রেনের বি-১ (B1) এসি কামরার নিচের অংশ থেকে তীব্র ধোঁয়া ও আগুনের স্ফুলিঙ্গ বের হতে দেখেন যাত্রীরা। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, চাকার ব্রেক লক হয়ে যাওয়ার (ব্রেক বাইন্ডিং) ফলে লাইনের সঙ্গে তীব্র ঘর্ষণ তৈরি হয়েছিল এবং সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত ঘটে।
গতিশীল ট্রেনের বাতাসের টানে সেই আগুন দ্রুত কামরার ভেতরের এয়ার কন্ডিশনার (AC) ইউনিট এবং ফোম-প্লাস্টিকের তৈরি সিটে ছড়িয়ে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুরো কামরাটি কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে। ঘুমন্ত যাত্রীরা প্রাণভয়ে চিৎকার শুরু করলে এক যাত্রী জরুরি চেইন টেনে ট্রেনটি থামানোর ব্যবস্থা করেন। লোকালয় থেকে দূরে একটি ফাঁকা মাঠের মাঝে ট্রেনটি ব্রেক কষে থামে।
ট্রেনটি থামামাত্রই রেলকর্মী এবং স্থানীয় গ্রামবাসীরা ছুটে এসে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজে হাত লাগান। কামরার দরজা ও জরুরি জানলা ভেঙে অবরুদ্ধ যাত্রীদের একে একে নিচে নামিয়ে আনা হয়। যাত্রীদের নিরাপদে বের করা সম্ভব হলেও আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, বি-১ কামরাটি সম্পূর্ণ পুড়ে কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। ভেতরে থাকা যাত্রীদের লগেজ, নথিপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে। ধোঁয়ার কারণে কয়েকজন যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এই দুর্ঘটনার এক অভূতপূর্ব ও ভয়ঙ্কর দিক ছিল রেললাইনের ধারের গাছপালায় আগুন লেগে যাওয়া। ট্রেনটি জ্বলন্ত অবস্থায় বেশ কিছুটা পথ চলায়, কামরা ও চাকা থেকে জ্বলন্ত ফাইবারের টুকরো ও আগুনের ফুলকি লাইনের দু’পাশে ছিটকে পড়তে থাকে। তীব্র গরমে লাইনের ধারের ঘাস ও গাছপালা শুকিয়ে থাকায়, সেই ফুলকি পড়ামাত্রই আগুন ‘দাবানল’-এর মতো রূপ নেয়। ট্রেনটি থামার আগেই রেললাইনের দু’পাশের প্রায় ২০০ মিটার এলাকা জুড়ে থাকা ঝোপঝাড় ও গাছপালা দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে, যা রাতের অন্ধকারে এক ভয়ঙ্কর দৃশ্যের অবতারণা করে।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন এবং রেলের উদ্ধারকারী দল। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় ট্রেনের এবং লাইনের ধারের গাছপালার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। সুরক্ষার স্বার্থে ক্ষতিগ্রস্ত কামরাটিকে ট্রেন থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে বাকি যাত্রীদের নিরাপদ কামরায় সরিয়ে নেওয়া হয়। এই দুর্ঘটনার জেরে ওই লাইনে বেশ কিছু ঘণ্টার জন্য ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছিল, যা বর্তমানে স্বাভাবিক হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আমাদের নিউজলেটার জন্য সাইন আপ করুন