Hot News
- Advertisement -
Ad imageAd image

দলবদল নিয়ে জল্পনার মাঝেও তৃণমূলের দাবি, ‘আড়াই কোটির বেশি ভোটের জনসমর্থন কয়েকজন জনপ্রতিনিধি চলে গেলেই কমবে না’

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে দলবদল এবং রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। বিভিন্ন মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে যে, তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু সাংসদ (MP) বা বিধায়ক (MLA) ভবিষ্যতে দল পরিবর্তন করতে পারেন। এই আবহে তৃণমূলের সমর্থক ও নেতাদের একাংশের দাবি, কয়েকজন জনপ্রতিনিধি দল ছেড়ে গেলেই দলের মূল জনসমর্থনে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না।
তাদের বক্তব্য, ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যজুড়ে আড়াই কোটিরও বেশি ভোট পেয়েছিল। সেই ভোট একটি বৃহৎ জনভিত্তির প্রতিফলন, যা শুধুমাত্র কয়েকজন জনপ্রতিনিধির দলত্যাগের কারণে কমে যাবে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয় বলে তারা মনে করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী সাফল্য নির্ভর করে সংগঠন, নেতৃত্ব, কর্মী-সমর্থক এবং জনমতের ওপর। জনপ্রতিনিধিদের দলবদল রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হলেও, তা সবসময় ভোটারদের একইভাবে প্রভাবিত করে না। অনেক ক্ষেত্রে ভোটাররা দলীয় প্রতীক, নেতৃত্ব বা সরকারের কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভোট দিয়ে থাকেন।
অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, রাজনৈতিক পরিস্থিতি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা বা জনপ্রতিনিধির যোগদান দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তাদের মতে, জনসমর্থনের প্রকৃত চিত্র প্রতিফলিত হয় নির্বাচনের ফলাফলে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় ২.৮ কোটি ভোট পেয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে। তবে এই ভোট ছিল দলটির নির্বাচনী প্রাপ্ত ভোট; এটি ব্যক্তিগতভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাপ্ত ভোট নয়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবিষ্যতে যদি কোনো দলবদল ঘটে, তার প্রকৃত প্রভাব কতটা পড়বে তা নির্ধারণ করবে জনগণের মতামত এবং পরবর্তী নির্বাচনের ফলাফল। তাই কয়েকজন সাংসদ বা বিধায়কের দলত্যাগের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক চললেও, জনসমর্থনের প্রকৃত শক্তি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

আমাদের নিউজলেটার জন্য সাইন আপ করুন